Sunday, December 14, 2014

Abar Hoba Dekha - আবার হবে দেখা


আবার হবে দেখা
কোন এক বৃক্ষের তলে-
পুরোনো স্মৃতির মুকুলিত মঞ্জরী নিয়ে;
সেদিন তোমার হয়তো সময় থাকবে না,
থাকবে না কোন অনুভূতি এখনকার মত।
সময়ের অসমান বিরুদ্ধাচারণ সংশয়ের আধারে তুমি
ভুলে যেতে পার তোমার পুরোনো স্মৃতি,
আমি ভুলতে পারব না আঘাত পেলেও শত।
তুমি আড়ালে থাকতে-
আমি খুঁজে বের করেছি তোমার লুকান চাবি,
তবু মনের ঘরে ঢুকতে পারিনি এখনও।

তাই,
আমি তোমার অচেনা সমুদ্রতটে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা,
আমি তোমার শিহরে লুকিয়ে রাখা চিঠির স্বাক্ষরকারী,
আমি তোমার বুকে জমে থাকা অজানা কথার বর্ণনাকারী,
আর আমি তোমার ভালবাসার অনলে দগ্ধ-প্রদাহের সাকার বাণী
যা লিখেছি তখনও।
তবু দেখা হবে অজানা কোন বৃক্ষের তলে
হয়তো সেটা তোমার ভুলে
পথচারি বিবাগীর আদলে
অচীন গাঁয়ের পথটি ধরে প্রতিক্ষার প্রহর গুনে
সবুজ তৃণের উর্দ্ধ নীলে,
আবার হবে দেখা তোমার-আমার পথ ভুলে।








Saturday, October 25, 2014

Ridoy Nia - হৃদয় নিয়ে

আমার সেইদিন
তুমি ফিরিয়ে দিতে পারবে না জেনেও কেনো অভিনয় করছো?
আমি মেনে নিয়েছি তোমার বিচ্ছেদ-এ-হৃদয় থেকে-
শুধু ভুলিনি তুমি যা আমাকে দিয়েছো

একটা শরৎ
তোমাকে ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছি আকাশের শুভ্র মেঘ গুনে
আরো আনেক অনেক স্বপ্নের জাল বুনে
হয়তো আড়াল প্রাচীর ভাঙবে না সীমান্ত তারের মতো
আমি দুঃখগুলো পুষে রেখেছি একদিন দিয়েছিলে যতো

আর অপেক্ষা হয়তো হবে না আলোর পথ চেয়ে
জানি-না ভুলেছো কি-না অন্য কাউকে পেয়ে
তবে ভুলে যেও ভুলে যেও তোমার মনে আমার কবর দিয়ে
ভালবেসেছিলাম তোমায় এ-অন্তর দিয়ে,
একটুও খেলা করিনি তোমার হৃদয় নিয়ে










Sunday, October 19, 2014

Valobasar Atit (ভালবাসার অতীত)

ভালবাসার অতীত নিয়ে নিরবে যখন ভেবেছি
প্রেমের শতদল তখনি এ-হৃদয়ে উঁকি দিয়ে উঠেছে
তবু কেনো জানি মনে হয় নিঠুর যাতনায়,
তুমি মেনে নিয়েছো পরাজয়।
আড়ালে লুকিয়ে আজ কেন কাঁদিছো?
মনে পড়েনা সেদিনের সেই বসন্ত সময়?
যেখানে গোলাপি ডাইরীতে আঁখির কাজলে লিখেছিলে,
‍তুমি আমি করলাম মন বিনিময়।

স্বপ্ন দেখ, চাঁদ-রজনীতে জেগে জেগে একাকী
আমার ভালবাসার খাতাতে দিয়ে ফাঁকি
তবু বলবো না ফিরে এসো আমার নিঝুম-কুঠিরে
যতোই তোমার স্মৃতি এই বুকে রাখি।



Monday, October 13, 2014

Ak Tukro Smiriti (এক টুকরো স্মৃতি)


আমার স্মৃতি মুছে যেতে পারে না
তোমার অচেনা চাহনিতে, যদি যায়
তবু হারাতে চাই সেদিনের সেই
সরিষা ফুলে ঢাকা চোরাবালিতে

আমি যেতে পারি অন্ধ হয়ে-
সময়ের নিষ্ঠুর প্রকোপে
বিলিন হয়ে যেতে পারি
এইরূপ বসুন্ধরাতে;
যদি শ্বাস থাকে খুঁজে নেবো
তোমার স্বরূপ মিষ্টি-মধুর কাকলিতে

ধূসর কুয়াশার ঝাপসা আলোয়
ঐ দিগন্তের সসীম কালোয়
পারি না কিছু স্মৃতি ভুলিতে ,
তাই এখানে আড়ালে যতোই চেয়েছি লুকাতে
ততোই কে যেন টেনে ধরে
দেয়না হারাতে
তবু হারাতে চাই সেদিনের সেই
সরিষা ফুলে ঢাকা চোরাবালিতে



Friday, September 26, 2014

EiD & Puja Special Song

পূজার স্পেশাল Song
1. Khusita Aj Mon Metasay. (DownLoad)
Puja Special Song
খুশিতে আজ মন মেতেছে ডাউনলোড

2. Abar Pujay SosurBari Jabo (DownLoad)
এবার পুজায় শ্বশুর বাড়ি যাব


EID Special Song

ঈদের স্পেশাল গান ডাউনলোড করুন
ডাউনলোড




Tuesday, September 2, 2014

Khusita Aj Mon Metasay-(Pujar Gan-খুশিতে আজ মন মেতেছে)


DownLoad The Song      DownLoad Now



খুশিতে আজ মন মেতেছে যাবো আমি সবই ভুলে
ঢাকের ওই বাদ্য শুনে মনটা আমার কেমন করে।
আজকে তোরা আমায় কেউ নজরবন্দি রাখিসনারে
আনন্দতে ভেসে যাবো নেইতো কোনো সীমানারে
প্রতিক্ষার অবসান এবার হল যে.....
মা এসেছে দেখ মা এসেছে
একটি বছর পরে আবার মা এসেছে
মা এসেছে দেখ মা এসেছে
মন্দিরেতে ঢাকের বাদ্য বেজে উঠেছে।
আজ প্রভাতে সবার আগে দেখবো আমার মাকে
দুঃখগুলো ঘুচে যাবে মায়ের মুখটা দেখে
পুষ্পমালা গেঁথেছি আজ দেবো মায়ের গলে
সুখেতে মন ভরে যাবে মায়ের আশীষ পেলে
মন্দিরেতে মায়ের সামনে করবো আরতি
মন্ত্র পড়ে পুরহিত মশাই জানাবে ভক্তি
ভাগ্য সবার খুলে যাবে শুভকামনায়
ছেলে-মেয়ে বুড়ো-বুড়ির আনন্দমেলায়


সুরকার, গীতিকার ও শিল্পী সি.এম.বিধান


DownLoad The Song





Friday, August 29, 2014

Apolok-অপলক


আমার স্বপ্নগুলো সত্য হত তোমায় কাছেতে পেলে
প্রিয়, আজ তুমি কি আসবে আমার ঘরেতে সবকিছু ভুলে?
অনেক-দিনের প্রতীক্ষা আর অপেক্ষার দীর্ঘ-জাল বুনেছি
তোমাকে পাওয়ার আকাংখায়- তুমি সজীব শুনেছি
আমার ভালবাসার এক মানিক-রতন, আলো-আধারের ঝিলিক।

একটু চাওয়ার ভাগীদার স্বপ্নীল প্রভাতের দীপ তুমি
সহসা তোমারই গান গেয়ে চলেছি আমি নির্ঘুম জোছনায়-
তুমি একটু আদরে প্রেমের শিখরে রেখে দিও জড়িয়ে।
আমি ভালবাসার পদ্ম নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি তোমারই আঙিনায়
প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে, তোমার স্মৃতিতে আজকেও অপলক।












Saturday, August 23, 2014

SomVrom-সম্ভ্রম


হায়রে নিয়তি!
দগ্ধ করো মোর আকুতি।
বারবার বিরহের অনলে,
পারিনি বোঝাতে আশাহীন নির্মম আঘাতে
আমারই সিক্ত আশ্রুজলে-
তব বিজয় মোর সংশয়;
নাহি আশার সঞ্চারী
যেথায় পুষ্প-কুঁড়ির নব উদ্যম।

আমি ছিন্ন পত্রে আচ্ছাদিত
ক্ষণিক পরিচয়ের অ-মানব
রক্ত পিপাসু পিশাচ, তব হৃদয়ের
গচ্ছিত ধনের হণণকারী,
নিয়তিরে জানাই ধিক্কার।

শক্ত ভ্রুকুটিতে প্রস্তর খন্ডিতে
নিক্ষেপ করিতে হইলে আজ অগ্রসর!
তব শিখরে দুরন্ত শকুন
আস্ফালন করে আমাকে সদয়-
আমি কম্পিত অসহায় সংকিত
আর্ধেক জীবন পাড়ি দেওয়ায়।
তবুও সন্ধান পাইনি পথ
হারিয়েছি শুধু সম্ভ্রম।       (সম্ভ্রম= সত্য)






Sunday, August 17, 2014

Bosa Achi Btayona-বসে আছি বাতায়নে


আজকে চাঁদ-জোছনায় বসে আছি
একলা বাতায়নে,
তোমার অট্টালিকার দিক-পানে
তাকাতেই নিস্পলক নেত্রদ্বয়
খুঁজে ফেরে তোমার বিচরণ।
শুনশান বাতাসের শব্দ ভেসে আসে কানে
মনে হয় মান-অভিমানে।

এখনো সমাপ্তি হয়নি জোছনার খেলা,
হয়নি বুনোফুলের নৃত্য
তোমার আঙিনা পার্শ্বে-
আমি জেগে থাকবো তোমাকে ভালবেসে।

Thursday, August 7, 2014

Short Story- City's Trap (শহুরে ফাঁদ)


ভারি বর্ষণ, কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছেকয়েকটি কেঁচ সবে মাটি ফুঁড়ে উঠে এল বর্ষায় ভিজতেএমন সময় ওপাড়ার বল্টু দা রঙিন ছাতায় মাথা মুড়ে আসছিলচারিদিকে শুন্শান্ তবে টিপটিপ বৃষ্টির শব্দ বেশ ছন্দময় ছিলকিন্তু যেতে যেতে হঠাৎ একটা বাঁশির শব্দ শুনল পিছনের সরু গলিটার ভিতর থেকেকি হল! কি হল! হঠাৎ মনের মাঝে প্রশ্নের উদায়মিনিট কয়েক যেতেই বুঝতে পারল একজন লোক তার দিকে ছুটে আসছেএকটু ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল বল্টু দাকিন্তু অবাক কান্ড, লোকটা কিছু একটা ফেলে চলে গেল- ডাক দিতেই দ্রুত চলে গেল লোকটি
সাদাসিধে বল্টু দা বুঝল না, ব্যাপারটা কিছোট একটা প্যাকেট, হাতে তুলে নিলপ্যাকেটটা খুলতেই একটা সোনার ঘড়ি দেখলকি তাজ্জব ব্যাপার, এ দেখি সোনার ঘড়িএত মূল্যবান অথচ ফেলে গেল কেন?’ প্রশ্নটা অজান্তে করেই বসলেন নিজেকে
যে কয়েক জন লোক অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল তারা ছুটে এল এবং ছোঁ মেরে প্যাকেটটা নেওয়ার চেষ্টা করলঅমনি বল্টু দা বলে উঠল, ‘কারা তোমরা?, এই প্যাকেটটা ওই লোকটি ফেলে গেছে, এটা তাকে ফেরত দেবতোমরা ছড় আমাকে
কোন কথা বলবি নাচুপচাপ দিয়ে দে, নইলে ঠাং ভেঙে এখানেই ফেলে দেব, বুঝলি!গোঁফওয়ালা কেলে মানুষটার কথা শুনে বল্টু দা বুঝতে পারল এরা সাধারণ মানুষ নয়, গুন্ডাবল্টু দা কোন ঝামেলায় না জড়িয়ে দিয়ে দিল
হাঁটতে হাঁটতে মোড়টা পেরিয়ে দেখে বৃষ্টির গতি আর বাড়ছেকোন উপায় না দেখে বল্টু দা একটা দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়আস্তে আস্তে শরীরে শীতবোধ হতে লাগলচোখ ঘোরাতেই একটা ছোট পাখিকে দেখে তার খুব মায়া হলপাখিটার নিকট গিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিলকিন্তু তার গায়ে রক্ত দেখে আর দুঃখ পেলহাতটা তার শরীরে রাখতেই চুপচাপ হয়ে গেল, যেন পাখিরাও মানুষের আদর বোঝে
যে পাখি মানুষ দেখলে ভয়ে পালায় সে আজ মানুষের হাতে ছাতার নিচে নিরাপদবোধ করলকিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উদয় হল তার মনেসে পাখিটাকে হাতে ধরে এদিক-সেদিক তাকালএকটু পাশেই একটা গাছের ডালে একটা বাসা দেখতে পেলবাসার দিকে যেতেই পাখিটা চিৎকার করে উঠলবল্টু দা গিয়ে দেখে তার বাসায় একটা সাপ বসে আছেডিমগুলো খেয়ে ফেলেছেযদি ভুল করে হাত দিত তাহলে কি হত, মনটা সেই ভেবে আতকে উঠল
বল্টু দা এবার বুঝতে পারল, কেন পাখিটা বৃষ্টিতে ভিজছেবৃষ্টি থেমে গেলে পাখিটাকে নিরাপদে রেখে বাড়িতে ফিরবেএকটা ছোট লাঠি দিয়ে সাপটাকে সরাতে গেল, কিন্তু তার দিকে ফনা উঠিয়ে ফোস ফোস করতে থাকেআস্তে আস্তে সরে গেল- কিন্তু আবার যদি আসে! বাড়িতেই নিয়ে কোথায় রাখি!
বৃষ্টি থেমে গেলবল্টু দা অন্য একটা ডালে পাখিটাকে রেখে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলকেউ যেন আবার সামনের দিক থেকে ছুটে আসছে দেখে আবার দাঁড়িয়ে পড়েলোকটি বল্টু দাকে না দেখে প্যাকেটটা যেখানে ফেলেছিল সেখানে ঘুরাঘুরি করতে থাকেলোকটি কিচ্ছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে অদূরে কাউকে দেখে অন্য রাস্তা দিয়ে চলে গেলএমন অবস্থা দেখে বল্টু দার বুঝতে বাকি রইল না যে, সোনার ঘড়িটাই এর রহস্য
বল্টু দা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলমনটা খুবই ভীতিকর আবার সুখকর মনে হলএকদিকে পাখিটাকে কিচ্ছুক্ষণ নিরাপত্তা দিতে পারায় আন্য দিকে গুন্ডার আতংকবাড় ফিরতে ফিরতে এইসব ভাবতে থাকে বল্টু দা

বাড়ি ফিরেই ছোট ভাই গিল্টু কে বলল- গিল্টু, বাড়ির পিছনে যে গাছটা আছে সেই গাছে কোন পাখির বাসা আছে কি নাযদি থাকে তবে তাকে জানাতে বললঠিক আছে দাদা, তাই হবে এই বলে বেরিয়ে গেল গিল্টুএরই মধ্যে ছোট পাখিটা তার বাড়তে এসে উঠলবারান্দার এককোণে কিছু জিনিস রাখার জন্য তক্তা রাখা ছিল, তার পাশে পাটের আঁশপাখিটা ওখানেই বসে পড়লএই দৃশ্য দেখে বল্টু দার মুখে হাসি ফুটল

যথারীতি পাখি ও বল্টু দার গল্প বলা শুরু হলপ্রত্যেক দিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প হয় তাদের মধ্যে
আজ পরিবেশটা বেশ সুন্দর মনে হল তাই বাইরে বের হলকিন্তু বাইরে বের হওয়ার সময় কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে- এমন মনে হল তারমাঝে মাঝে পিছন ফিরে দেখতে থাকেকখনো কখনো অদূরে একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়শুধু আশ্চর্য্যরে বিষয় হল- লোকটি সেই লোক, যে লোকটি বৃষ্টির মাঝে প্যাকেটটা ফেলে গিয়েছিলবল্টু দা ভয়ে ভয়ে পথ চলেহঠাৎ একটা লোক তাকে সম্বোধন করে বলল, আরে মশাই কেমন আছেন? এলাকায় নতুন এসেছি! ব্যাবসা-ট্যাবসা করি, আপনি?
একটু অবাক হয়ে গেল, কিন্তু সামলে নিয়ে বলল- আমি বাপু ঘোষেদের বাড়ির কারখানায় হিসাব নিকাশের চাকরি করিওই---- ওপাশের দুটা রাস্তা পর আমি থাকিতা মশাই আজ আসি পরে দেখা হবেআগান্তুকের কথা শুনে বল্টু দা বলল, কোন ধরনের ব্যাবসা করেন বলবেন কি? শুনে আগান্তুক বলল, অন্য দিন বলব মশাই
বল্টু দা কিছুই বুঝতে পারল নাকিছু শোনা আগেই রহস্যময়ভাবে এসে রহস্যময়ভাবে চলে গেলবল্টু দা আবার চলতে শুরু করল ঘোষ বাড়ির দিকে

আজ ফিরতে একটু দেরি হলঅন্য দিন তিনটায় বাড়ি ফেরে, আজ পাঁচটা বেজে গেলরাস্তার মোড়ে আসতেই অচেনা সেই লোকটা প্যাকেটের সন্ধানে আবার এসেছে দেখলআজ মুখমুখি হয়ে গেললোকটি ভদ্রতার সাথে বল্টু দাকে ডেকে বলল- দাদা, কয়েকদিন পূর্বে একটা প্যাকেট বৃষ্টির মাঝে ওই মোড়টায় পড়ে গিয়েছিলআপনি ওখানে ছিলেন, প্যাকেটটা যদি ফেরত দিতেন, খুব উপকার হতআমার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে দাদা---!
ওই দিনেই কিছু লোক এসে আমার কাছ থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে গেলওদের মাঝে একটা গোঁফওয়ালা কেলে (কাল) মানুষ ছিল, সেই লোকটা একটা ছুরি বের করল, আমি ভয়ে সেটা দিয়ে দিলামকিন্তু দাদা আমার তো জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে গেল! ঠিক আছে ভাই, ওখানে বসে কথা বলি!
বল্টু দা তাকে নিয়ে বসলসুন্দরভাবে শুনল, কি তার সমস্যা

আসলে দাদা ওই জিনিসটা মি.কেলিটন সাহেবেরতিনি ওটা আমায় দিয়েছিলেন উপহার হিসেবেকিন্তু কেলিটন সাহেব যেটা আমায় দিতে চেয়েছিলেন সেটা ভুল করে থেকে গেছে বাসায়আর ওই প্যাকেটটা আমায় দিয়েছিলেনকেলিটন সাহেব বললেন ১ নম্বর প্যাকেট তোমার জন্য আর ২ নম্বর প্যাকেটটা আমার১ নম্বরে আছে একটা সোনার হার আর ২ নম্বরে আছে একটা সোনার ঘড়িআজ সকালে কেলিটন সাহেব বললেন
কিন্তু সেটা মুখ্য বিষয় নয়মুখ্য বিষয় হল সাহেবের ঘড়িটা অনেক দামীতাছাড়া ওই দিনে কেলিটন সাহেবের বাড়িতে ডাকাত পড়েছিলআমাকে ভুল করে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলপিছনের দরজা দিয়ে আমরা দুজনে পালিয়ে গেলাম

তা এতো দামী উপহার?
কেলিটন সাহেব গতবছর সোনার দোকান থেকে আনেক-কে গয়না বানাতে উদ্বুদ্ধ করেনসাথে সাথে থাকতাম বলে তিনি আমাকে পছন্দ করতেনসেই সূত্রে স্বর্ণকারের আনেক টাকা লাভ হয়তা ছাড়া বিদেশে গেলে স্বর্ণকার বাবুরা তাঁর কাছে স্বর্ণ আনতে দিতেনকারণ কেলিটন সাহেব মস্তবড় পরিবার থেকে এসেছেনতাঁর বহু লোক জানাশুনা আছেতাঁর পাসপোর্ট-ভিসা প্রায় সব দেশে যাওয়ার জন্য অনুমোদিত

ও আচ্ছা---! কিন্তু কি করার এখন!
তাই তো ভাবছি মশাইঠিক আছে চলেন থানায় একটা ডাইরী করিতাই চলুন
পথের মধ্যে সেই গুন্ডার দল তাদের ধরে বসলঅনেক কথা কাটাকাটি হলতারা বলল অন্য প্যাকেটটা কোথায়, তাদের দিয়ে দিতে বললআচেনা মানুষটি বলল, ওটা তো নেই চুরি হয়ে গেছেজীবন বাঁচাতে মিথ্যে বললকিন্তু কেউ বিশ্বাস করতে চাইল নাবল্টু দাকে বেদম মারল এবং আন্য ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গেলবল্টু দা ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরলগিল্টু কে বলল, আজ থেকে সে বাইরে যাবে না, ঘরেই থাকবেআর গিল্টু যদি পারে তবে যেন তার চাকরিটা সে করে
গিল্টু দা তার দাদার চাকরি নিয়ে ঘোষ বাড়িতে যেতে থাকেআর সময় অনুযায়ী গিল্টুর বাড়ি ফেরার পথে বল্টু দা তাকিয়ে থাকে




Monday, August 4, 2014

Anek Din Por- অনেক দিন পর


অনেক দিন পর আমি এলাম
তোমার আঙিনার ধারে,
তুমি ফিরিয়ে দিও না নিঠুর হৃদয়ে।
হয়তো তেমন ভালবাসা আমার মাঝে আর নাই
নিয়তির নিষ্ঠুর খেলাতে চড়াই-উতরাই;
পার হতে পারিনি এখনো আমি বিষাদময়।

ক্ষণিক দৃষ্টির মায়াটানে
তোমার ব্যস্ততার ফাঁকে,
আমি দুনয়নে ঝরিয়েছি বারি।
আশাহত বিহগের ডানা ঝাপটানি হৃদয়ে,
তুমি শুনতে পাওনি?
স্বপ্নের ভ্রান্তিতে ছবি আঁকে ঘুমন্ত নয়ন
তবুও নিস্কৃতি পায় না স্মৃতির চঞ্চলতা।

ফিরে যেতে আসিনি,
সঙ্গে নিতে এসেছি তবে রিক্ত হস্তে।
জবা, জুঁই, বকুল, গোলাপও আনতে পারিনি
তোমাকে শুভেচ্ছা জানাতে।
এটাকে আমি বলি অসহায়তা:
আমি নির্মান করতে পারিনি
একা যে ছোট্ট মহল,
আমি ভাবতে পারিনি, নির্ঘুম
আবার অসতে হবে তোমার নিকট-
প্রথম প্রস্তর তুমি দেবে সেই অপেক্ষায়।






Sunday, July 20, 2014

Exclusive Love Story- Atoppor-অতঃপর-(শেষ অংশ)


(৩) শেষ অংশ
সকাল দশটাদিপু টগর-এর অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেসব আয়োজন সমাপ্তহঠাৎ কড়া নাড়ল সদর দরজায়দরজা খুলতেই অনেক লোকের ভিড় দেখে আতকে উঠে দিপু-র স্বামী সজীব জিজ্ঞাসা করলকি হল, সবাই এত ভিড় করেছেন কেন? আর এই লোকটি বা কে? পাশ থেকে একজন বলে উঠল, দাদা- লোকটি অনেক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছিল আর বিড়বিড় করে কি-সব উল্টাপাল্টা বকছিলসন্দেহ হল তাই ধরে এনেছি
আচ্ছা, ঠিক আছে! আপনার নাম কি? কোথা থেকে এসেছেন? লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন সজীব সাহেবউত্তরে আগান্তুক বলল, দিপু কে? তাঁকে একটু ডেকে দিন না! খুব দরকার!

কেন, কি হয়েছে? আমায় বলুন, আমি তার স্বামী

টগর নামে এক ভদ্রলোক এই পত্রখানা দিয়েছেতিনি এখানে আসতে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেনমুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন

মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল সকল ব্যক্তির হৃদস্পন্দনএমন একজন ব্যক্তি, যে-কিনা এমন একটা খবর আনল, তাকে সন্দেহের বসবর্তী হয়ে হেনস্থ করল! অবশ্য না বুঝে করেছেবাড়ির ঠিকানা ঠিক-ঠাক না বুঝতে পেরে বিড়বিড় করে পড়ছিল, এই বাড়িটা হবে, না--- ঐ বাড়িটা হবেসজীব সাহেব সবার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন, ইনি আমার অতিথি

আগান্তুককে বসার ব্যবস্থা করে পত্রখানা দিপু-র হাতে দিল
দিপু পত্রখানা পড়তে শুরু করল-

দিপু,
এটা তোমার কাছে লেখা আমার প্রেম পত্র নয়Ñ সেটা হলে অনেক দ্বিপক্ষীয় দ্বিধা-সংশয়-সংকোচ জাপটে ধরবেতবুও বলছি-
না চাইতে প্রেম-ভালবাসা আমি সবাইকে দিয়ে থাকি, তার উপলক্ষ্য মাত্র উন্মোচিত হলআবার, ভুল বুঝে দূরে সরে যেও নাবিধাতা আমাকে সেই প্রেম-ভালবাসা দিয়েছে অফুরন্ত, না হয় কিছুটা তোমায় দিলাম
আমি আবার বলছি, এটা তোমায় লেখা প্রেম পত্র নয়, আমার হৃদয়ের কথাঅনেক দিনের জমানো কথা, শেষ হবে না এক পাতায় তবুও বলছি, আমি সেই মানুষকে ভালবাসি যার সুন্দর একটা মন আছে, রূপের অহংকার থাকে না
ছোটো কালে মানুষ না-চিনে কথা কইতাম, কিন্তু আজ মানুষকে চিনতে শিখেছি, তাই চোখ দুটি দেখলে মুখমন্ডলে ভেসে উঠে তার ভেতরকার ছবি- পড়তে শিখেছি সেই ছবির ভাষা
আমি শান্ত ও চঞ্চল প্রকৃতিকে বেশি ভালবাসি তাই যেখানে শান্ত ও দুষ্ট-মিষ্ট ভাবের আদান-প্রদান ঘটে সেখানে আমার অবস্থান দীর্ঘ হয়, নয়তোবা চলে যাই সীমাহীন আড়ালে, খুঁজে পাওয়তো দূরে থাক স্বপ্নেও দেখা মেলে না
আমার দুটি রূপ আছেএকÑ পাগলামি-
গাছ-প্রকৃতি, চাঁদের আলো, জোনাকি আমাকে ডাক দিয়ে যায়দুই- অনাচার মুক্ত সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার ক্ষুদ্র প্রয়াসÑ কিছু কিছু খারাপ প্রবণতা থেকে বিরত রাখি এই প্রেমী সত্ত্বাকে
খুব শিঘ্রই আরেকটি রূপের সন্ধান মিলবে, অপেক্ষায় আছি, পেয়েও যাব
জানি অনেক বাঁধা পেরোতে হবেকিন্তু ভয় পাই না সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়াÑ একটু ভীত হই যন্ত্রনার আগুনেঅনেক পুড়েছি তুষের মতো, এবার কয়লা হতে চাই, যার অনেক মূল্য আছে কর্মকারের উঠানে
একটা স্বপ্ন আছেÑ
পতœী রূপে কাউকে পাওয়াএ---ই--- শ্যামলা বরণ, প্রকৃতির মত রূপ মাধুর্য্যে ভরা, পিতার ইচ্ছে সঙ্গিতে হাতে খড়ি রয়েছে এমন
যথার্থ বিচারে হয়তো গেঁয়ো, কিন্তু সবুজ বনানী শুধু গাঁয়ে দেখা যায়, শহরে শুধু ধোঁয়া-শব্দের মিতালীতাই নিজেকে গেঁয়ো বলতে ভালবাসি
ভাবছ, এতো কথা কেন?
বন্ধুকে চিনে নিয়ো, কষ্ট যাতে না হয়

--হারিয়ে যাবে কাগজটি, সংরক্ষণের জায়গা এখনো তৈরি হয়নিতবে কথাগুলো এ-মন থেকে কখনো মুছবে না

এখন দিগন্তে চেয়ে কিছু স্বপ্নের আলোক রেখা দেখি, কাল হয়তো সেটাও থাকবে না এ-জীবনেদৃষ্টিতে ভাঁটা পড়বে, প্রদীপ নিভে যাবে ঝড়ো বাতাসে আর কলমটি শিয়রে কাঁদবে

আমার কলমকে তুই দেখে রাখিস
সে বড় একা
নিশি-দিন থাকত সাথে
প্রিয় সে-সখা
শুধু বাস্তবতায় নয় আঁকা
কল্পতেও সে ছিল
আমার হাতে ছোঁয়ানো
ময়ূর পাখা

অনন্ত দুঃখেও ছাড়িনি তাকে,
ভীত হয়নি মরণটাকে দেখে;
তার শেষ আশ্রয়টা
কোথায় মিলবে?
আমি আঙুল তুলে দেখিয়ে গেলাম
তোর দিকে
তুই যত্ন করে রেখে দিস
আমার প্রিয় সখা

হেয়ালির আঁড়ালে লুকাতে ভালবাসিমেঠ পথে গাইতে ভালবাসিশুধু চাই না দোয়েল-শ্যামার পাকা বাড়িএকটি কথা-
কতো কাজ বাকি, বলতে পারিস? পারিশ্রমিক পাব তো আমি? আচ্ছা! ভুল হলে ক্ষমা করে দিস

শত-সহস্র কথার মাঝে
আমি এঁকে যাব তোদের চিহ্ন,
তোরা অপর ন
তোরা-আমি অভিন্ন;
সংক্ষিপ্ত পরিসরে   নীরালা কুঠিরে
রাত্র জেগে বৃষ্টির আবেগে
লিখেছি যা
তা অতি নগণ্য
পাত থেকে ফেলে দেওয়া
খাবারের উচ্ছ্বিষ্টের মত জঘন্য,
যাঁদের করতে চেয়েছি অনন্য-
আমি বরাবর-ই তাঁদের কাছে বন্য,
তবুও আমি যে ধন্য
তোদের ভালবাসা অনুরাগে

ভুলিস না, ঐ প্রাসাদে হাসি হেসে-
অনেক রয়েছে, অনেক দেখবি সিন্ধুকে ভরা মণি-মুক্তাগেঁয়ো, অপরিপক্ক বাঁশ, ঘুণে ধরা অসংখ্য ছিদ্রের মালিক; জলের অস্তিত্ত্ব মেলে না এই ছেড়া চালুনিতে
তোদের দেখে একটা আশা মনে জেগে উঠেছে-, আয় সবুজের পথে, আয় মশী হাতে সহস্র পৃষ্ঠায় আঁচড় কাটিঅবশেষে-
চিরকাল রাখবি তোদের হৃদয়ে- বিশ্বাস করি, সাধনা-সঙ্গিতে, সাহিত্যের গন্ডিতে আবার তোদের সাথে দেখা হবেই
ইতি
টগর

টগর এখন কোথায়? আগন্তুককে প্রশ্ন করল দিপুহাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিল, বাঁচবে কি না সন্দেহ! আগান্তুকের এই কথা শুনে দিপু বলে উঠল, না, তা হতে পারে না, আমি যাব তার নিকটতাঁর স্বামী বলল, আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা সবাই যাব একসাথে টগর-কে দেখতেএই বলে তাঁরা তিন জন বেরিয়ে পড়ল টগর-এর উদ্দেশ্যে


(ছোট গল্প)

Last 7 Days!

App