Thursday, August 7, 2014

Short Story- City's Trap (শহুরে ফাঁদ)

ভারি বর্ষণ, কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছেকয়েকটি কেঁচ সবে মাটি ফুঁড়ে উঠে এল বর্ষায় ভিজতেএমন সময় ওপাড়ার বল্টু দা রঙিন ছাতায় মাথা মুড়ে আসছিলচারিদিকে শুন্শান্ তবে টিপটিপ বৃষ্টির শব্দ বেশ ছন্দময় ছিলকিন্তু যেতে যেতে হঠা একটা বাঁশির শব্দ শুনল পিছনের সরু গলিটার ভিতর থেকেকি হল! কি হল! হঠা মনের মাঝে প্রশ্নের উদায়মিনিট কয়েক যেতেই বুঝতে পারল একজন লোক তার দিকে ছুটে আসছেএকটু ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল বল্টু দাকিন্তু অবাক কান্ড, লোকটা কিছু একটা ফেলে চলে গেল- ডাক দিতেই দ্রুত চলে গেল লোকটি
সাদাসিধে বল্টু দা বুঝল না, ব্যাপারটা কিছোট একটা প্যাকেট, হাতে তুলে নিলপ্যাকেটটা খুলতেই একটা সোনার ঘড়ি দেখলকি তাজ্জব ব্যাপার, এ দেখি সোনার ঘড়িএত মূল্যবান অথচ ফেলে গেল কেন?’ প্রশ্নটা অজান্তে করেই বসলেন নিজেকে
যে কয়েক জন লোক অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল তারা ছুটে এল এবং ছোঁ মেরে প্যাকেটটা নেওয়ার চেষ্টা করলঅমনি বল্টু দা বলে উঠল, ‘কারা তোমরা?, এই প্যাকেটটা ওই লোকটি ফেলে গেছে, এটা তাকে ফেরত দেবতোমরা ছড় আমাকে
কোন কথা বলবি নাচুপচাপ দিয়ে দে, নইলে ঠাং ভেঙে এখানেই ফেলে দেব, বুঝলি!গোঁফওয়ালা কেলে মানুষটার কথা শুনে বল্টু দা বুঝতে পারল এরা সাধারণ মানুষ নয়, গুন্ডাবল্টু দা কোন ঝামেলায় না জড়িয়ে দিয়ে দিল
হাঁটতে হাঁটতে মোড়টা পেরিয়ে দেখে বৃষ্টির গতি আর বাড়ছেকোন উপায় না দেখে বল্টু দা একটা দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়আস্তে আস্তে শরীরে শীতবোধ হতে লাগলচোখ ঘোরাতেই একটা ছোট পাখিকে দেখে তার খুব মায়া হলপাখিটার নিকট গিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিলকিন্তু তার গায়ে রক্ত দেখে আর দুঃখ পেলহাতটা তার শরীরে রাখতেই চুপচাপ হয়ে গেল, যেন পাখিরাও মানুষের আদর বোঝে
যে পাখি মানুষ দেখলে ভয়ে পালায় সে আজ মানুষের হাতে ছাতার নিচে নিরাপদবোধ করলকিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উদয় হল তার মনেসে পাখিটাকে হাতে ধরে এদিক-সেদিক তাকালএকটু পাশেই একটা গাছের ডালে একটা বাসা দেখতে পেলবাসার দিকে যেতেই পাখিটা চিকার করে উঠলবল্টু দা গিয়ে দেখে তার বাসায় একটা সাপ বসে আছেডিমগুলো খেয়ে ফেলেছেযদি ভুল করে হাত দিত তাহলে কি হত, মনটা সেই ভেবে আতকে উঠল
বল্টু দা এবার বুঝতে পারল, কেন পাখিটা বৃষ্টিতে ভিজছেবৃষ্টি থেমে গেলে পাখিটাকে নিরাপদে রেখে বাড়িতে ফিরবেএকটা ছোট লাঠি দিয়ে সাপটাকে সরাতে গেল, কিন্তু তার দিকে ফনা উঠিয়ে ফোস ফোস করতে থাকেআস্তে আস্তে সরে গেল- কিন্তু আবার যদি আসে! বাড়িতেই নিয়ে কোথায় রাখি!
বৃষ্টি থেমে গেলবল্টু দা অন্য একটা ডালে পাখিটাকে রেখে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলকেউ যেন আবার সামনের দিক থেকে ছুটে আসছে দেখে আবার দাঁড়িয়ে পড়েলোকটি বল্টু দাকে না দেখে প্যাকেটটা যেখানে ফেলেছিল সেখানে ঘুরাঘুরি করতে থাকেলোকটি কিচ্ছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে অদূরে কাউকে দেখে অন্য রাস্তা দিয়ে চলে গেলএমন অবস্থা দেখে বল্টু দার বুঝতে বাকি রইল না যে, সোনার ঘড়িটাই এর রহস্য
বল্টু দা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলমনটা খুবই ভীতিকর আবার সুখকর মনে হলএকদিকে পাখিটাকে কিচ্ছুক্ষণ নিরাপত্তা দিতে পারায় আন্য দিকে গুন্ডার আতংকবাড় ফিরতে ফিরতে এইসব ভাবতে থাকে বল্টু দা

বাড়ি ফিরেই ছোট ভাই গিল্টু কে বলল- গিল্টু, বাড়ির পিছনে যে গাছটা আছে সেই গাছে কোন পাখির বাসা আছে কি নাযদি থাকে তবে তাকে জানাতে বললঠিক আছে দাদা, তাই হবে এই বলে বেরিয়ে গেল গিল্টুএরই মধ্যে ছোট পাখিটা তার বাড়তে এসে উঠলবারান্দার এককোণে কিছু জিনিস রাখার জন্য তক্তা রাখা ছিল, তার পাশে পাটের আঁশপাখিটা ওখানেই বসে পড়লএই দৃশ্য দেখে বল্টু দার মুখে হাসি ফুটল

যথারীতি পাখি ও বল্টু দার গল্প বলা শুরু হলপ্রত্যেক দিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প হয় তাদের মধ্যে
আজ পরিবেশটা বেশ সুন্দর মনে হল তাই বাইরে বের হলকিন্তু বাইরে বের হওয়ার সময় কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে- এমন মনে হল তারমাঝে মাঝে পিছন ফিরে দেখতে থাকেকখনো কখনো অদূরে একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়শুধু আশ্চর্য্যরে বিষয় হল- লোকটি সেই লোক, যে লোকটি বৃষ্টির মাঝে প্যাকেটটা ফেলে গিয়েছিলবল্টু দা ভয়ে ভয়ে পথ চলেহঠাৎ একটা লোক তাকে সম্বোধন করে বলল, আরে মশাই কেমন আছেন? এলাকায় নতুন এসেছি! ব্যাবসা-ট্যাবসা করি, আপনি?
একটু অবাক হয়ে গেল, কিন্তু সামলে নিয়ে বলল- আমি বাপু ঘোষেদের বাড়ির কারখানায় হিসাব নিকাশের চাকরি করিওই---- ওপাশের দুটা রাস্তা পর আমি থাকিতা মশাই আজ আসি পরে দেখা হবেআগান্তুকের কথা শুনে বল্টু দা বলল, কোন ধরনের ব্যাবসা করেন বলবেন কি? শুনে আগান্তুক বলল, অন্য দিন বলব মশাই
বল্টু দা কিছুই বুঝতে পারল নাকিছু শোনা আগেই রহস্যময়ভাবে এসে রহস্যময়ভাবে চলে গেলবল্টু দা আবার চলতে শুরু করল ঘোষ বাড়ির দিকে

আজ ফিরতে একটু দেরি হলঅন্য দিন তিনটায় বাড়ি ফেরে, আজ পাঁচটা বেজে গেলরাস্তার মোড়ে আসতেই অচেনা সেই লোকটা প্যাকেটের সন্ধানে আবার এসেছে দেখলআজ মুখমুখি হয়ে গেললোকটি ভদ্রতার সাথে বল্টু দাকে ডেকে বলল- দাদা, কয়েকদিন পূর্বে একটা প্যাকেট বৃষ্টির মাঝে ওই মোড়টায় পড়ে গিয়েছিলআপনি ওখানে ছিলেন, প্যাকেটটা যদি ফেরত দিতেন, খুব উপকার হতআমার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে দাদা---!
ওই দিনেই কিছু লোক এসে আমার কাছ থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে গেলওদের মাঝে একটা গোঁফওয়ালা কেলে (কাল) মানুষ ছিল, সেই লোকটা একটা ছুরি বের করল, আমি ভয়ে সেটা দিয়ে দিলামকিন্তু দাদা আমার তো জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে গেল! ঠিক আছে ভাই, ওখানে বসে কথা বলি!
বল্টু দা তাকে নিয়ে বসলসুন্দরভাবে শুনল, কি তার সমস্যা

আসলে দাদা ওই জিনিসটা মি.কেলিটন সাহেবেরতিনি ওটা আমায় দিয়েছিলেন উপহার হিসেবেকিন্তু কেলিটন সাহেব যেটা আমায় দিতে চেয়েছিলেন সেটা ভুল করে থেকে গেছে বাসায়আর ওই প্যাকেটটা আমায় দিয়েছিলেনকেলিটন সাহেব বললেন ১ নম্বর প্যাকেট তোমার জন্য আর ২ নম্বর প্যাকেটটা আমার১ নম্বরে আছে একটা সোনার হার আর ২ নম্বরে আছে একটা সোনার ঘড়িআজ সকালে কেলিটন সাহেব বললেন
কিন্তু সেটা মুখ্য বিষয় নয়মুখ্য বিষয় হল সাহেবের ঘড়িটা অনেক দামীতাছাড়া ওই দিনে কেলিটন সাহেবের বাড়িতে ডাকাত পড়েছিলআমাকে ভুল করে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলপিছনের দরজা দিয়ে আমরা দুজনে পালিয়ে গেলাম

তা এতো দামী উপহার?
কেলিটন সাহেব গতবছর সোনার দোকান থেকে আনেক-কে গয়না বানাতে উদ্বুদ্ধ করেনসাথে সাথে থাকতাম বলে তিনি আমাকে পছন্দ করতেনসেই সূত্রে স্বর্ণকারের আনেক টাকা লাভ হয়তা ছাড়া বিদেশে গেলে স্বর্ণকার বাবুরা তাঁর কাছে স্বর্ণ আনতে দিতেনকারণ কেলিটন সাহেব মস্তবড় পরিবার থেকে এসেছেনতাঁর বহু লোক জানাশুনা আছেতাঁর পাসপোর্ট-ভিসা প্রায় সব দেশে যাওয়ার জন্য অনুমোদিত

ও আচ্ছা---! কিন্তু কি করার এখন!
তাই তো ভাবছি মশাইঠিক আছে চলেন থানায় একটা ডাইরী করিতাই চলুন
পথের মধ্যে সেই গুন্ডার দল তাদের ধরে বসলঅনেক কথা কাটাকাটি হলতারা বলল অন্য প্যাকেটটা কোথায়, তাদের দিয়ে দিতে বললআচেনা মানুষটি বলল, ওটা তো নেই চুরি হয়ে গেছেজীবন বাঁচাতে মিথ্যে বললকিন্তু কেউ বিশ্বাস করতে চাইল নাবল্টু দাকে বেদম মারল এবং আন্য ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গেলবল্টু দা ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরলগিল্টু কে বলল, আজ থেকে সে বাইরে যাবে না, ঘরেই থাকবেআর গিল্টু যদি পারে তবে যেন তার চাকরিটা সে করে
গিল্টু দা তার দাদার চাকরি নিয়ে ঘোষ বাড়িতে যেতে থাকেআর সময় অনুযায়ী গিল্টুর বাড়ি ফেরার পথে বল্টু দা তাকিয়ে থাকে





No comments:

Post a Comment

Last 7 Days!

App